বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর। ক্ষয়ে গেছে কোমরের হাড়, ঠিকমতো চলাফেরা করাও কঠিন। তবুও ভোট দেওয়ার ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে শারীরিক কষ্ট। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভাতিজির হাত ধরে ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন ৮০ বছর বয়সী নুরজাহান বেগম। ভাতিজির সহায়তায় কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ফিরে যান তিনি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন নুরজাহান বেগম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাতিজি লায়লাতুন।
নুরজাহান বেগম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজীপাড়া এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে একা চলাফেরা করতে না পারায় ভাতিজি তাকে ধরে ধরে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। ভোট দেওয়া শেষে আবারও তাকে সহায়তা করে বাড়ির পথে নিয়ে যান। বয়সের ভারে শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়লেও ভোট দেওয়ার প্রতি তার আগ্রহ ছিল স্পষ্ট। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারলেও ভোটকেন্দ্রে এসে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তিনি।
ভোট দিতে আসার অনুভূতি জানিয়ে নুরজাহান বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বয়স হয়েছে, কোমরের হাড় ক্ষয়ে গেছে। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারি না। তবুও আজ ভোট দিতে এসেছি ভাতিজির হাত ধরে। সে আমাকে ধরে ধরে নিয়ে এসে ভোট দিয়ে আবার নিয়ে যাচ্ছে।
নুর জাহানের ভাতিজি লায়লাতুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার বড় আম্মার বয়স হয়েছে। তিনি চলাফেরা করতে পারেন না ৷ আমি তাকে ধরে ভোট দিতে নিয়ে এসেছি। ভোট দেওয়ার পর আবার নিয়ে যাচ্ছি। বয়স হলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহ থেকে তিনি এসেছেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভূল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন- বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এরপর এই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।