মোঃফিরোজ উপজেলা প্রতিনিধি রাণীশংকৈল
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ মিনি স্টেডিয়াম। উপজেলার বিভিন্ন বয়সী খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন, ফুটবলসহ নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান ভেন্যু এটি। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠজুড়ে পানি জমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই মাঠটি দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনেও তৈরি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পর মিনি স্টেডিয়াম মাঠের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পানি জমে আছে। মাঠের নিচু অংশগুলোতে পানি জমে ছোট-বড় জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান না হলেও দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকায় ঘাস ও মাটির স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাঠের একাধিক অংশ কাদাযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ায় খেলোয়াড়দের স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সমস্যা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বৃষ্টির পর মাঠে পানি জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পর মাঠ শুকাতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে একদিনের বৃষ্টি হলেও পরবর্তী কয়েকদিন মাঠ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
টুর্নামেন্ট আয়োজনেও ভোগান্তি
মাঠে পানি জমে থাকার কারণে এর আগে একাধিক ক্রীড়া টুর্নামেন্টের খেলা বন্ধ বা স্থগিত করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খেলোয়াড় ও আয়োজকেরা। নির্ধারিত সময়ে খেলা আয়োজন করতে না পারায় আয়োজকদের নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা খেলোয়াড়দেরও ফিরে যেতে হয়েছে অনেক সময়।
একজন স্থানীয় খেলোয়াড় বলেন, “বৃষ্টি হলে মাঠে পানি জমে যায়। পানি শুকাতে সময় লাগে। ফলে নিয়মিত অনুশীলন তো করা যায়ই না, অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচও আয়োজন করা সম্ভব হয় না। মাঠটির পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা এখন খুব জরুরি।”
ক্রীড়া আয়োজকদের মতে, একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সঙ্গে শুধু খেলোয়াড়রাই নন, অনেক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকেন। খেলা বন্ধ হলে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আয়োজক, দর্শক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই বিষয়টিকে শুধু মাঠের সমস্যা হিসেবে না দেখে এলাকার ক্রীড়া উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
অনুশীলন থেকে বঞ্চিত তরুণরা
রাণীশংকৈল উপজেলায় ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ রয়েছে। স্থানীয় অনেক তরুণ নিয়মিত এই মাঠে অনুশীলন করেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে যাওয়ায় তাদের অনুশীলন বন্ধ হয়ে যায়। এতে খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতি ও দক্ষতা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্রীড়াপ্রেমীদের ভাষ্য, একটি ভালো খেলার মাঠ শুধু বিনোদনের জায়গা নয়; এটি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মাঠটি দীর্ঘ সময় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রয়োজন স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। মাঠের পানি কোন দিক দিয়ে বের হবে, মাঠের ঢাল কেমন হবে এবং আশপাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঙ্গে কীভাবে সংযোগ করা যায়—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর ও স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তাদের মতে, মাঠের প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত নালা তৈরি, মাঠের নিচু অংশ ভরাট ও মাটি সংস্কার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠের উচ্চতা সমন্বয় করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাঠের চারপাশের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও উন্নত করা দরকার।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
এলাকাবাসী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, মিনি স্টেডিয়াম মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তারা বলেন, রাণীশংকৈলের তরুণদের জন্য এই মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠটি যদি সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী রাখা যায়, তাহলে স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ তৈরি হবে।
ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান করে রাণীশংকৈল মিনি স্টেডিয়ামকে সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগই পারে মাঠটিকে আবার প্রাণবন্ত ক্রীড়া চত্বরে পরিণত করতে।