
মোঃফিরোজ উপজেলা প্রতিনিধি রাণীশংকৈল
একজন মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কতটা গভীর হতে পারে—তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে। প্রিয় মানুষ রজ্জব মাওলানার জানাজায় অংশ নিতে রাতের আঁধারেও বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। বিশাল এই জনসমাগমে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় জানাজার স্থান।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১০টায় রজ্জব মাওলানার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাণীশংকৈল ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী ও সেতাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে জানাজা শেষে রাতেই তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
জানাজার সময় চারপাশে ছিল শোকের আবহ। কেউ এসেছেন শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতে, কেউ এসেছেন তাঁর জন্য দোয়া করতে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি রজ্জব মাওলানার প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রজ্জব মাওলানা রাণীশংকৈল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তা এবং মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্কের কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অনেকের মতে, রাণীশংকৈলের বুকে এত বড় মানুষের সমাগমে জানাজা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল। কোনো আনুষ্ঠানিক আহ্বানের অপেক্ষা না করেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ছুটে আসা তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসারই প্রতিচ্ছবি।
শেষ বিদায়ের মুহূর্তে মানুষের এই ঢল যেন বলে দিয়েছে—রজ্জব মাওলানা শুধু একটি রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের মানুষ ছিলেন না; তিনি বহু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোক নেমে এসেছে। জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষজন মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মহান আল্লাহ তায়ালা রজ্জব মাওলানার জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।
Leave a Reply