
স্টাফ রিপোর্টার: অতুল বসাক
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সাথী হিমাগার লিমিটেডে সংরক্ষিত আলু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, বিক্রির অনিশ্চয়তা এবং হিমাগার কর্তৃপক্ষের আলু কিনতে অনাগ্রহের কারণে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। এদিকে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকায় কয়েক হাজার টন আলু পচে নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন খরচ ও সংরক্ষণ ব্যয় তুলতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিমাগারে রাখা আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এলাকার অনেক কৃষক। বাজারে আলু বিক্রি করতে না পারায় এবং হিমাগার কর্তৃপক্ষ আলু কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আলু সংরক্ষণ, জমি প্রস্তুত, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে ব্যয় করা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
সাথী হিমাগার লিমিটেডের ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ মুশফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আগের বছরের আলু যদি আমরা বের করে দিতে না পারি, তাহলে নতুন আলু হিমাগারে ঢোকাতে পারব না।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরোনো আলু সরানো না গেলে নতুন আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আনারুল ইসলাম, পিতা নজরুল ইসলাম, গ্রাম—ক্ষুদ্র বাঁশবাড়ি এবং মো. রমজান আলী, পিতা শুকর উদ্দিন, গ্রাম—কলিগাঁও তাঁদের হতাশার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, “এত আলু এখন কোথায় নিয়ে যাব? বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে না, আবার সাথী হিমাগারও কিনতে চাচ্ছে না। আমরা এখন কী করব?”
কৃষকদের অভিযোগ, আলু উৎপাদনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেও তাঁরা এখন সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। সময়মতো আলু বিক্রি করতে না পারলে পচন ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে। এতে কৃষকদের লোকসানের পাশাপাশি আগামী মৌসুমে আলু চাষে বিনিয়োগ করার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
এ অবস্থায় প্রান্তিক কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁরা রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিস লায়লা আরজুমান বেগমসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কৃষকদের দাবি, আলু সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সৃষ্ট সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে তাঁরা উৎপাদিত আলু বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন।
কৃষকদের প্রশ্ন—ফসল ফলানোর পরও যদি তা বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে তাঁদের লোকসানের দায় কে নেবে? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রাণীশংকৈলের প্রান্তিক আলুচাষিদের এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Leave a Reply