
১। ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
২। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৬) অপহরণ ও ধর্ষণের পর তার বাবাকে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনার পরে লোকলজ্জার মুখে পড়ে নিজ বাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনার মামলায় প্রধান আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ( র্যাব)। গতকাল ( ৮ আগস্ট) রাতে ঢাকার সাভার এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাইফুল জেলার বালিয়াডাঙ্গী থানাধীন মহিষমারী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
৩। মামলার এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী ঐ কিশোরী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করাসহ অবৈধ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। স্কুলছাত্রী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণের নীলনকশা তৈরি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন সকাল ১০টার দিকে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে স্কুলের পাশের রাস্তা থেকে আসামিরা জোরপূর্বক তাকে একটি অটোচার্জারে তুলে অপহরণ করে ঠাকুরগাঁও রোডের কাছাকাছি নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কিছু সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে মেয়েটির জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে একটি অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে গিয়ে আসামি সাইফুল ইসলাম অন্যান্য আসামির সহযোগিতায় কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
৪। ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রী কৌশলে আসামিদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর মেয়ের ওপর হওয়া এই চরম অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে আসামি সাইফুলের বাড়িতে যান ওই ছাত্রীর বাবা; কিন্তু আসামিরা উল্টো হুমকি দিয়ে বলে- মেয়েটির স্বাক্ষর দিয়ে তারা বিয়ের জাল কাবিননামা তৈরি করেছে। আইনি পদক্ষেপ নিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে বলে ওই ছাত্রীর বাবাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
৫। গত ২ জুলাই, ২০২৬ তারিখ বিকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে কাঁচারাস্তায় পৌঁছামাত্রই ওৎপেতে থাকা আসামিরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছাত্রীর বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রধান আসামি সাইফুল লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ওই ছাত্রীর বাবার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে দেয় এবং ৩ নম্বর আসামি মানিক হোসেন পিঠ ও কোমরে মারাত্মক জখম করে। ওই ছাত্রীর বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাইফুলের ভাই ফরহাদ ওরফে কোম্পানী (৪০) তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় আসামিরা জীবননাশের হুমকি দেয়।
৬। ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রীর বাবা আবুল কাসেম (৪২) তার মেয়ের ওপর বর্বর নির্যাতন, নিজের পঙ্গুত্ব এবং আসামিদের অনবরত প্রাণনাশের হুমকিতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। গত ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ রোববার বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বসতবাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
৭। এই ঘটনায় গত ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ ভুক্তভোগী ঐ কিশোরীর মা বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন ( মামলা নং- ০৪)। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ জড়িতরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
৮। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে র্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-১, র্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্প এবং র্যাব-৪, সিপিসি-২, সাভার ক্যাম্প এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ৮ জুলাই রাত ২০.৪৫ ঘটিকার সময় ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন কাতলাপুর হোমিও আরোগ্য ভবনের সামনে অভিযান পরিচালনা করে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি থানার আলোচিত সেই মামলার প্রধান আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম কে গ্রেফতার করে।
৯। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
…মূলকপি স্বাক্ষরিত…
বিপ্লব কুমার গোস্বামী
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
সিনিয়র সহকারী পরিচালক
(মিডিয়া)
অধিনায়কের পক্ষে মোবা-০১৭৭৭৭১১৩০৩
তারিখ- ০৯/০৮/২০২৬ খ্রিঃ
Leave a Reply