
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত গণহত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে সময় বেধে দিয়েছে মোদী সরকার।
ভারত সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারত থেকে চলে যেতে বলেছে দেশটির সরকার।
এজন্য তৃতীয় কোনো দেশে যেতে তাকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ভারত।
ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন হাসিনা। ইতিমধ্যে আফ্রিকার মরিশাস, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের একাধিক দেশে যোগাযোগ করেছেন হাসিনা।
এরমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তার আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। আর ইউরোপের বেলারুশ ছাড়া অন্য দেশগুলো থেকেও হতাশার বার্তা পেয়েছেন হাসিনা।
ফলে শেষ পর্যন্ত মরিশাস ও বেলারুশের মধ্যে যেকোনো একটি দেশকে বেছে নিতে হতে পারে তাকে।
তবে, ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, বেলারুশের চেয়ে হাসিনার জন্য মরিশাসকে বেশি নিরাপদ ভাবছে ভারত। মোদী সরকারের পক্ষ থেকে হাসিনাকেও জানানো হয়েছে বিষয়টি।
জানা গেছে, অতিসম্প্রতি ভারত সফরের কথা ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। কিন্তু ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানসহ বিভিন্ন কারণে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা বিবেচনায় নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে উদ্বেগের কথাও জানানো হয়েছে ভারতকে।
অর্থ্যাৎ, হাসিনা ভারতে অবস্থানকালে দেশটিতে সফরে যাবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারত। দেশটির আবাসন, হোটেল, পর্যটন, চিকিৎসাখাতসহ সার্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সম্পর্ক দৃঢ় করতে মরিয়া ভারত।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসাবে পাঠানো হয়েছে দীনেশ ত্রিবেদীকে। মন্ত্রী মর্যাদার এ কূটনীতিক সরাসরি যোগাযোগ করেন মোদীর সঙ্গে। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই-তিন দফায় মোদীর কাছে সরাসরি বাংলাদেশের বার্তা পৌছে দিয়েছেন তিনি।
সামগ্রীক পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের কঠোর অবস্থানে শেষ পর্যন্ত হাসিনাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিলো দেশটির সরকার।
Leave a Reply